চলাচলের একমাত্র মাধ্যম স্লিপার পোলটি ভেঙে পড়ে আছে দীর্ঘ দিন
আসাদুজ্জামান মিলন, শরণখোলা থেকে
মাঝখানে বৃত্তাকার ছায়া সুনিবিড় গ্রাম। আর তার চারপাশে প্রশস্ত খাল। তাই এ গ্রামটির নাম দ্বীপচর। গ্রামটিতে তিন শতাধিক পরিবারের বসবাস। এখানে আছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আছে দুটি মসজিদ। আর আছে বিস্তীর্ণ কৃষি জমি। গ্রামের চারপাশের খালগুলো স্বাদু পানিতে ভরে থাকায় এখানের মানুষ তাদের যার যার জমিতে সারা বছর নানা রকমের চাষাবাদে ব্যাস্ত থাকে। সারা বছর এ গ্রামের জমিতে কোন না কোন ফসল ফলানোর জন্য দ্বীপচর গ্রামটি উপজেলার কৃষিপল্লী হিসাবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
এই দ্বীপচর থেকে লোকালয়ের সাথে যোগাযোগের জন্য প্রধান মাধ্যম ১৫০ ফুট লম্বা একটি স্লিপার পোল। যার মাধ্যমে এখানকার মানুষ রায়েন্দা ইউনিয়নের খাদা গ্রাম হয়ে উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করত। তাদের উৎপাদিত কৃষিপন্য পাঠানো হতো উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার ও পাশ্ববর্তী বাংলাবাজারে। এসব বাজারের পাইকারী ব্যাবসায়ীরা কৃষিপন্য কেনার জন্য ছুটে যেত কৃষি পল্লী দ্বীপচরে। এখানের চাষীরা তখন ফসল ফলিয়ে ভালো বাজারমূল্য পেয়ে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেছিলো।
কিন্তু তাদের যোগাযোগের প্রধানতম মাধ্যম সেই স্লিপার পোলটি ভেঙে দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। কৃষি পন্যের পরিবহন দূরে থাক মানুষের সাধারন চলাচল ও দুরুহ হয়ে পড়েছে। তাই উপজেলার কৃষিপল্লী খ্যাত দ্বীপচর বাসীর মনে আর সুখ নেই।
এ গ্রামের চাষী ফজলু খান ও রবিউল ইসলাম জানান, আমাদের চলাচলের পোলটি ভেঙে পড়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। তাই তাদের কৃষি পন্য বাজারে পাঠাতে পারেনি। তাই উপযুক্ত দাম না পেয়ে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ে চাষাবাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এ গ্রামের কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়াও সম্ভব হবেনা বলে জানান তারা।
সমাজ সেবক মনির সওদাগর বলেন, কয়েক দিন আগে গ্রামের মানুষ নিজেদের খরচে কিছু অংশে কাঠ দিয়ে মেরামত করেছিল। তাও আবার ভেঙে পড়েছে।
এ গ্রামের প্রবীন সমাজ সেবক মোফাজ্জেল হোসেন সওদাগর ও বাচ্চু তালুকদার বলেন, একটি পোলের অভাবে এ গ্রামটির মানুষের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ পোলটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। জীবনের ঝূঁকি নিয়ে এ পোল দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ গ্রামের শতভাগ মানুষ আওয়ামীলীগের সমর্থক। সারা জীবন নৌকায় ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন থেকে কেন তারা বঞ্চিত হবেন।
এ গ্রামের বাসিন্দা শরণখোলা উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী রেক্সোনা দেলোয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের সময় সারাদেশে উন্নয়নের মহা উৎসব চলছে। ঠিক সেই সময় এই পোলটির এ দূরাবস্থা সত্যি দুঃখজনক।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসিমুল আহসান তালুকদার জনগনের দূর্ভোগের কথা তুলে ধরে খাদা ও দ্বীপচরের খালে জরুরী ভিত্তিতে সেতু নির্মানের জোর দাবি জানিয়েছেন।
শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী ফেরদৌস আহমেদ জানান, সংস্কার না হওয়ায় ১৫০ ফুট স্লিপার ব্রীজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে থাকায় মানুষের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে সেতু নির্মানের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
পিএসএন/এএম/এএপি



