
যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিল ইউক্রেন। যাবতীয় নথিপত্রে সই করার পরেই আবর্জনার মধ্যে সেই কাগজ ফেলে দেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। সেই চুক্তির একটি খসড়া প্রকাশ করে এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আফ্রিকান দেশগুলোর একটি সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও কোনো পক্ষ বিরতি নেয়নি। খবর এসোসিয়েট প্রেসের
শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে আফ্রিকান দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেছিলেন পুতিন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, মিশর, জাম্বিয়া, উগান্ডা, কঙ্গো রিপাবলিক ও কমোরো আইল্যান্ডের প্রধানরা। সেখানেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি করেন পুতিন। যদিও তার মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইউক্রেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ডাক দেয় তুরস্ক। দুই দেশ যেন একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রেখে যুদ্ধ বন্ধ করে- এই ভেবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক হয় ইস্তাম্বুলে।
পুতিনের দাবি, সেই বৈঠকেই শান্তিচুক্তি সই করে দুই দেশ। ভবিষ্যতে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করবে না ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে- এই ছিল চুক্তির মূল কথা। পুতিনের দাবি, দুই দেশের প্রতিনিধিরাই এই চুক্তিতে সই করেছিলেন।
কিন্তু সই করার পরই এই চুক্তিপত্র আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেন ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। কেন এমন আচরণ করেন তারা সে বিষয়টি জানাননি পুতিন।
২০২২ সালের ঘটনা প্রকাশ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট কেন এতদিন সময় নিলেন? এ বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘ইউক্রেন এই ঘটনাটা প্রকাশ করতে চায়নি। কিন্তু রাশিয়াও কথা দেয়নি যে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসবে না।’
এই কথা বলে চুক্তিপত্রের একটি খসড়া দেখান পুতিন। ইউক্রেনের প্রতিনিধির সই রয়েছে খসড়ায়, তাও দেখা যায়। তারপরই পুতিনের প্রশ্ন, এমন আচরণের পর ইউক্রেনের সঙ্গে কি কোনওরকম শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব?


