যশোরের শার্শার সরকার দলীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের মালিকানাধীন আফিল জুট উইভিং মিলে ভয়াবহ আগুনে শত কোটি টাকার পাট ও মিলের মেশিন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে। বেনাপোল, কলারোয়া, ঝিকরগাছা ও যশোরের ৬টি ইউনিট ২ ঘন্টা চেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহসহ ছবি তুলতে গেলে তাদের বাধা দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। এমনকি অনেকের মোবাইল ও ক্যামেরা কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ।
এদিকে অগ্নিকান্ডের সময় শত শত নারী পুরুষ শ্রমিক মিলের মধ্যে কাজ করছিল। তাড়াহুড়ো করে বেরুতে গেলে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাদের স্থানীয় শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যশোর ২৫০ শষ্যা জেনারেল হাসপাতালসহ আশেপাশের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আখের আলী (৫০) নামে এক শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মিলের কয়েকজন শ্রমিক জানান, আমরা সবাই কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে মিলের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে সবাই বের হয়ে আগুন নেভাতে থাকি। কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নেভাতে থাকে। আগুনে আমাদের অনেক শ্রমিক আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনোরঞ্জন জুট মিলে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করি। পরে অন্যান্য ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা এসে আমাদের সাথে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বৈদুত্যিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত না করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বলা না গেলেও শত কোটি অনুমান করা হচ্ছে। প্রচুর পাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মেশিনপত্র পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছে।
আফিল উইভিং জুট মিলের জেনারেল ম্যানেজার আহাদ আলী জানান, হঠাৎ করে মিলের মধ্য থেকে ধোয়া দেখা যায়। আস্তে আস্তে মিলের চতুর্দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ধারনা করা হচ্ছে মিলে থাকা মেশিনারিজসহ শতকোটি টাকার অধিক মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।


