শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সাত কলেজের অধ্যক্ষরা। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এদিকে, ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে অধ্যক্ষদের বৈঠক শুরুর আগে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তার মধ্যে অন্যতম দাবি হলো— আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন আহমেদকে পদত্যাগ করতে হবে।
তাছাড়া সংঘাতের দায় নিয়ে ঢাবি প্রশাসনকে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটামও দিয়েছেন তারা। বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা আবারও কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বাকি ৫টি দাবি হলো-
ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাসহ ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় এসি, ওসিসহ জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ঢাবি শিক্ষার্থী কর্তৃক ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা কলেজসহ সাত কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাত কলেজের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক সম্পর্কের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ইউজিসি সদস্য এবং ঢাবি ভিসির সমন্বয়ে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি টিমের সঙ্গে তাৎক্ষণিক মিটিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার সমাধান করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এরিয়ায় সিটি করপোরেশনের রাস্তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে রোববার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে রাত ১১টার দিকে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া। শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে সংঘর্ষ। রাত সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে যান।


