কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জেরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে জাতির উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার রাতে দিল্লির স্থানীয় সময় ৮টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত আর কোনওভাবেই ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল’ সহ্য করবে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এটি বাতিল করা হয়নি। বরং পাকিস্তান আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপর নির্ভর করবে ভারতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। মোদি বলেন, ভারত শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে কেউ যদি এই শান্তিকে দুর্বলতা মনে করে, তাহলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশবাসী, বিশেষ করে পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার পর গোটা জাতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছিল। শিশুদের সামনে ধর্ম জানতে চেয়ে মানুষ হত্যার মতো নৃশংসতার কাহিনি জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মোদি বলেন, এ হামলা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও গভীরভাবে আঘাত করেছে। তিনি জানান, ভারতের বাহিনী কেবল প্রতিক্রিয়া জানায়নি, বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, মাত্র তিন দিনের অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শত্রু পক্ষের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে অবস্থিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো ‘সন্ত্রাসের বিশ্ববিদ্যালয়’ ছিল, যা এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে শতাধিক জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল একটি সামরিক নাম নয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এটি ভারতের জনগণের আবেগ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তিনি বলেন, এই অভিযান তিনি ভারতের মা, বোন ও কন্যাদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।
মোদি তাঁর ভাষণে আরও বলেন, ভারত তার সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে এবং দেশ তার সামরিক সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ দিয়েছে। সন্ত্রাস ও শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না, ঠিক যেমন রক্ত ও পানি একই পথে প্রবাহিত হতে পারে না—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের প্রতি শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সন্ত্রাসবাদের অবসানকেই প্রধান শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ভাষণ শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই নয়, বরং ভারতের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী নীতি এবং নিরাপত্তা কৌশলের এক স্পষ্ট ঘোষণাও বটে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তানকে যেমন কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও ভারতের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


