শেরপুরে পৃথক ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে ও প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের মৃত্যু হয়।
সোমবার (৭ নভেম্বর) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার পৃথক স্থানে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া মোল্লাবাড়ী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. খোরশেদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, খুনুয়া মোল্লাবাড়ী গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ের সঙ্গে একই গ্রামের খলিলের ছেলে রূপ চাঁনের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে বিষয়টি নিয়ে ওই দুই পরিবারের মধ্যে আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলছিল। সোমবার সকাল ৯টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে খোরশেদ আলীকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, একইদিন সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাফসা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। হাফসা ওই গ্রামের মো. হাফিজুর রহমানের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হাফসা বাড়ির সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী এক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহত হাফসাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের রামেরকুড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কেয়া মনি (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কেয়া মনি ওই গ্রামের আবু হানিফের কন্যা।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে কেয়া মনি খেলাধূলা করার সময় সকলের অজান্তে বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরের পানিতে কেয়া মনির লাশ ভেসে উঠে। বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল আলম ভূইয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া সোমবার ভোররাতে ও সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েচে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এর মধ্যে খায়রুল ইসলাম নামে একজন বিষপান করে ও গৃহবধূ সালমা বেগম নামে অপরজন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম স্ত্রীসহ ঢাকায় বসবাস করতেন। তার স্ত্রী এক বাসায় ঝিয়ের কাজ করতেন। কিছুদিন আগে ওই বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে স্বামীকে নিয়ে নালিতাবাড়ীর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে বাসার মালিক নালিতাবাড়ী থানায় এসে চুরির অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ কিছু চোরাই মালামাল উদ্ধার করে তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠায়। ওই ঘটনায় ক্ষোভ ও অভিমানে বিষ পান করে সোমবার ভোরে তিনি আত্মহত্যা করেন। খাইরুল ইসলাম কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের জয়নাল আবদীনের ছেলে।
অপরদিকে, একই ইউনিয়নের বেনুপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সালমা খাতুন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তার পরিবারের লোকজন সিলেটে বসবাস করতেন। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও অসুস্থতায় তিনি সোমবার সকালে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, উভয় ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


