শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট নিরসন ও গোতাবায়া সরকারের পদত্যাগ দাবিতে রোববারও (১৭ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো মানুষ। তবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবরে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার সংবিধান সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করবে না বলে সাফ জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের দমাতে গোতাবায়া সরকার সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছে বলে যে গুজব ছড়িয়েছে, তাও উড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে রাস্তায় নেমেছেন নানা বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ। তাদের একটাই দাবি, চলমান সমস্যার সমাধান। একই সঙ্গে বর্তমান গোতাবায়া রাজাপাকসে সরকারের পদত্যাগের দাবি তাদের।
রোববার (১৭ এপ্রিল) কলম্বোর পুরানো পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয়ে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকটের কথা প্রতিবাদের সুরে জানাতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। বর্তমান সরকারের শেষ না দেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ সময় গোতাবায়া সরকারের পতন ঘটিয়ে সুষ্ঠ নির্বাচনেরও দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, শ্রীলঙ্কার আর্থিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। মুসলিম, তামিল, সিংহলি সব সম্প্রদায়ের মানুষ এক হয়েছে গোতাবায়া সরকারের পদত্যাগের দাবিতে। দিনরাত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কলম্বোর এক বাসিন্দা বলেন, ‘এ লড়াই বেশ দীর্ঘ। আমার মনে হচ্ছে না এ সরকার এত সহজে পদ ছাড়বে। আর তাই আমাদের সবার উচিত এ লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’
একই দাবিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দলগুলো। রোববার (১৭ এপ্রিল) ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হাজারো সমর্থক তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চল বেরুওয়ালা থেকে রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে পদযাত্রা করে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এক সপ্তাহের জন্য কলম্বোর স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পিএসএন/এমঅাই


