দুই দিনের সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।
রোববার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
এর আগে গুলশানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেন ডোনাল্ড লু।
গত শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন লু। এই সফরে তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সরকারের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডোনাল্ড লু মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। গত ৩০ বছর যাবৎ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে পররাষ্ট্র কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ডোনাল্ড লু। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর (অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি) দায়িত্ব পান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রভাবশালী এ কর্মকর্তার নাম বিশেষ আলোচনায় আসে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বক্তব্য থেকে। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পেছনে লু’কে দায়ী করেছিলেন।
সফরকালে রোববার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে পৃথক বৈঠক করেন ডোনাল্ড লু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক ও খোলামেলা আলোচনা করেছি। আমরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার প্রকাশ করেছি।
শীর্ষ এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সমস্যা দেখবে, তখন তারা কথা বলবে এবং পরামর্শ দেবে। আমরা বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াব।
ডোনাল্ড লু বলেন, মার্কিন কংগ্রেস ট্রেডিং স্কিমের অনুমোদন দিলে বাংলাদেশই হবে প্রথম দেশ, যারা জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) এর জন্য যোগ্য হবে।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনও আমাদের কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা করছি যে, তারা কখন কোনো দেশকে জিএসপি অনুমোদন দেয়। আমরা সরকারের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। তাই, যখন এটি অনুমোদিত হবে, তালিকায় প্রথম দেশটি হবে বাংলাদেশ।
মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের যৌথ ব্রিফিংকালে ডোনাল্ড লু বলেন, র্যাব মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, এটি একটি চমৎকার কাজ। এটি প্রমাণ করে যে, র্যাব মানবাধিকারকে শ্রদ্ধাবোধ রেখেই সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং আইন প্রয়োগকারী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে সক্ষম।


