সমবেত প্রচেষ্টায় সরকারি ও বিরোধী দল মিলে দায়িত্বশীল আচরণ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করলে গণতন্ত্র তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কোনো বিকল্প আপাতত নেই। আমাদেরকে সেদিকেই ফিরে যেতে হবে। যদিও এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা খুব সহজ বিষয় নয়। অনেক চ্যালেঞ্জ আছে সামনে, আমরা বুঝি। চ্যালেঞ্জ যাই থাকুক যদি উভয়ের দলের আন্তরিকতা থাকলে আমরা ইনশাল্লাহ পারবো।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে মতবিনিময়ের আগে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সব স্ট্রাকচারই ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই দায়িত্ব বেশি সরকারি দলের। তাদেরকেই মূল ভূমিকা রাখতে হবে। তারা যদি মূল ভূমিকা রাখেন তাহলে রাষ্ট্রের যে অঙ্গগুলো বিকল হয়ে পড়েছে সে এগুলো সচল করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সর্বত্র ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে গেছে। এই জায়গাগুলোকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন করতে হবে। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসাবে আমরা জনগণের সঙ্গেই থাকবো ইনশাল্লাহ। জনস্বার্থ সংরক্ষণ দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ হবে আমাদের মূল দায়িত্ব। এদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রেখেই জাতির পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করব।
সংসদে একটি কার্যকর এবং গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য জোট কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুনিয়ার সভ্য দেশগুলো যেভাবে দায়িত্ব পালন করে আমরা সেই কালচারটা সেই সংস্কৃতিটা সংসদে আমরা দেখতে চাই। সংসদের দুটি অঙ্গ, একটি সরকারি দল আরেকটি থাকবে বিরোধী দল। এটাই স্বাভাবিক। বিরোধীদল যেন সংসদে কথা বলার অধিকার পায় সেটা আমরা আশা করবো। তখন সরকারের দায়িত্ব যারাই নেবেন দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমরা আমাদের দিক থেকে নৈতিক দায়িত্ব পালন করবো ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে (সরকারি দল) আশ্বস্ত করবো দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনাদের পাশে আছি। আমরা হাতে হাত রেখে কাজ করবো। স্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন এই পাহারাদারির মধ্য দিয়ে একটা জাতিকে আমরা কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের রাস্তায় উঠাতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।
আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে চাই। দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, সামাজিক সৌন্দর্য বিধান করা, মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করা, জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণ যে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অতিষ্ঠ সেগুলো থেকে বের করে আমরা আনতে পারবো যদি সরকারি দল আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং আমরা সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবো। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা থেকে জাতিকে বের করে আনা এবং জুলাই যে আকাঙ্ক্ষা জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষাপটে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো আমরা অতীতেও বারবার জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি জুলাই যুদ্ধ দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
তিনি বলেন, পুরো জাতি কার্যত জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছে। জাতির এই অবদানকে স্মরণ রেখে যদি সংসদ পরিচালিত হয় আমরা বিশ্বাস করি এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। কিন্তু যদি জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে আমরা ভুলে যাই তাহলে এই জাতির ভাগ্যে বারবার জুলাই ফিরে আসতে পারে। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই, জুলাই যে কারণে ফিরে এসেছে এই কারণটা যেন আর দ্বিতীয়বার তৈরি না হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি যে আমাদের সমবেত প্রচেষ্টায় সরকারি দল বিরোধী দল মিলে আমরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ করি, জাতির প্রতি যদি আমরা দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করি তাহলে গণতন্ত্র তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে ইনশাল্লাহ। এর কোন বিকল্প আপাতত নেই। আমাদেরকে সেদিকেই ফিরে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা খুব সহজ বিষয় নয়। অনেক চ্যালেঞ্জ আছে সামনে আমরা বুঝি। চ্যালেঞ্জ যাই থাকুক আমরা মনে করি এটা অর্জন। যদি আমাদের আন্তরিকতা উভয়ের থাকে তাহলে আমরা পারবো
এই নির্বাচনে দেশবাসীর যারা অংশগ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যারা সমর্থন শক্তি যোগিয়েছেন এবং যারা আমাদেরকে ভোট দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন আমরা তাদের সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। দেশবাসী যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নির্বাচনের ফলে তার পূর্ণ প্রতিফলন হোক কিংবা না হোক, আমরা কথা দিচ্ছি নির্বাচনের আগে যত কথা আমরা আপনাদেরকে বলেছি একটা বিরোধী দল হিসেবে আমাদের নিজের অবস্থান থেকে তার যতটুকু সর্বোচ্চ পালন, বাস্তবায়ন করা সম্ভব আমরা সেই ব্যাপারে ইনশাল্লাহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমরা তা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী আপনারা ছিলেন আমাদের পাশে ছিলেন, আমরাও আছি। আমরা আপনাদেরকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। সুদিন দুর্দিন যাই আসুক আমরা দেশবাসীর সঙ্গে থাকবো।
আগামীকাল থেকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এটা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক নতুন দ্বারা সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটুক এবং মানুষের জীবনে শান্তি এবং নিরাপত্তা ফিরে আসুক আমাদের যুবকদের প্রত্যাশা পূরণ হোক তাদের হাতে হাতে কাজ তুলে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র যেন পদক্ষেপ নেয় সেই পদক্ষেপের আমরাও গর্বিত অংশীদার হতে চাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মাওলানা আ. ন. ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, রফিকুল ইসলাম খান, মতিউর রহমান আকন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।


