
জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ,দল পরিবর্তনে হারিয়েছে জনপ্রিয়তা:
খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ জুন। এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট কাউন্সিলর। যারা প্রত্যেকে কয়েকবার করে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনের ফলাফলে কেসিসির সাত ওয়ার্ডে ৭ হেভী ওয়েট কাউন্সিলরের পরাজয় হয়েছে।
২০০২, ২০০৮, ২০১৩ ও ২০১৮ সালে টানা চারবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাস। ২০১৫-২০১৬ সালে তিনি সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেন।
নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা যায়, ১৬ নং ওয়ার্ডে আনিসুর রহমান বিশ^াস ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান ইফতেখার চালুর কাছে।
ওয়ার্ড ঘুরে জানা যায়, তিনি এ ওয়ার্ডে বিগত সময়ে বিএনপির মনোনিত কাউন্সিলর ছিলেন। একইসাথে বিএনপি মহানগর নেতা থাকায় নগরীর বিএনপির ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়েছেন। তবে গত নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগে যোগদান দেওয়ায় এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভোট ব্যাংক ছিল না। এছাড়া ভোটকেন্দ্র না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি তাদের কর্মিদের ব্যাপারে ছিলো কঠোর। একই সাথে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে হাইব্রিড আওয়ামী লীগ উপাধি দিয়ে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় তার একক যে বলয় তৈরি করেছে তাই নিয়েই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন তিনি। নির্বাচনে সবার নজর ছিলো এ ওয়ার্ডে। তবে তার পরাজয়ের কারণ হিসেবে ওয়ার্ডবাসী জানান, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও মানুষের পাশে দাড়াননি তিনি। ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ও সড়ক সংস্কারে তার কোন ভূমিকা ছিলোনা বললেই চলে।
শুধু তিনি-ই নন কেসিসি নির্বাচনে নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে এরকম ১২টিতে পরাজিত হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলরা। তাদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন সাত জন। যার মধ্যে সাবেক ও বর্তমান চার বিএনপি নেতা ও তিনজন আওয়ামী লীগের।
তারা হলেন, ৭ নং ওয়ার্ডের শেখ সুলতান মাহমুদ পিন্টু, ১০- নং কাজী তালাত হোসেন কাউট, ১২ নং ওয়ার্ডের মো. মনিরুজ্জামান মনির, ১৬ নং ওয়ার্ডের মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাস, ১৯ নং ওয়ার্ডের আশফাকুর রহমান কাকন, ২১ নং ওয়ার্ডের শামছুজ্জামান মিয়া স্বপন ও ২৮ নং ওয়ার্ডের আজমল আহমেদ তপন।
সাত নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টুর। তিনিও গত নির্বাচনে বিএনপির ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে জয় লাভ করলেও পরবর্তীতে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ফলে এ নির্বাচনে কাজে লাগাতে পারেনি বিএনপির ভোট। একই সাথে তার বিরুদ্ধে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওয়ার্ডবাসী। তিনি সাধারণ মানুষ তাকে নিয়মিত পাশে পান না বলে জানান তারা। ১০ নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালি নেতা কাজী তালাত হোসেন কাউট। তিনি হেরে যান থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রিন্সের কাছে।
১২ নং ওয়ার্ডের টানা তিনবারের কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান মনির। গত তিনবারেই বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছেন। ২০১৮ সালে নির্বাচনের পরে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাষ্টার সফিকুল আলমের কাছে হারেন তিনি। তার হারার কারন হিসেবে ওয়ার্ডবাসী জানায়, বিএনপির ভোট ব্যাংক ছিলো না। অপরদিকে তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী ছিলো। এদিকে জামায়াত নেতা মাষ্টার সফিকুল আলম বিহারী অধ্যুষিত এই ওয়ার্ডে তাদের ভোট টেনেছেন।
১৯ নম্বরের আসাফুর রহমান কাকনের ক্ষেত্রে একই অবস্থা। তবে ২১ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছিলো নগরবাসির জন্য চমক। কারণ দুই ওয়ার্ডে হেভিওয়েট আওয়ামীলীগের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছেন দুই তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা। তারা হলেন ২১ নম্বর ওয়ার্র্ডে ইমরুল হাসান। তিনি শামছুজ্জআমান মিয়া স্বপনকে পরাজিত করেন। আর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে জিয়াউল হাসান টিটু পরাজিদ করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলহাজ¦ আজমল আহম্মেদ তপন।
