সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সুমাইয়া মোসলেম মীম নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা দিয়েছেন।
মীমের বাবার নাম মো. মোসলেম উদ্দিন সরদার। তিনি পেশায় একজন সহকারী অধ্যাপক। তার মায়ের নাম খাদিজা খাতুন। তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। ২০১৯ সালে যশোর বোর্ডের ডুমুরিয়া গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ২০২১ সালে সরকারি এম এম সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। খুলনার মৌলভীপারার বাউন্ডারি রোডের ১৪/টিবি এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
ঘোষণার পরপরই ৩টি কোচিং সেন্টার মীমকে তাদের শিক্ষার্থী দাবি করেছে। রেটিনা, মেডিকো এবং উন্মেষ তাদের কোচিং সেন্টারের ফেসবুক পেজ থেকে মীমকে নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছে। কোচিংগুলোর দাবির পর নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য শুরু করেন । মীমের সাফল্যে যখন কোচিংগুলো তাকে নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করছে, তখন মীম নিজেই জানালেন ভিন্ন কথা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীম জানান তিনি শুধুমাত্র ডিএমসি স্কলার কোচিংয়ের শিক্ষার্থী। এখানে ছাড়া আর কোথাও আর অন্য কোনো কোচিংয়ে ক্লাস করেনি সে। উন্মেষ এবং রেটিনা কোচিংয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিয়েছেন শুধুমাত্র। ডিএমসি স্কলারের ডা. সিয়াম মীমকে লেখাপড়ার বিষয়ে গাইড করেছেন।



এ ব্যাপারে ডিএমসি স্কলার কোচিংয়ের পরিচালক ডা. সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, একজন শিক্ষার্থী যদি ভালো ফলাফল করে সেটি আমাদের গর্বের বিষয়। আর যদি সেটা দেশে প্রথম হয়, তাহলে তো আরও গর্বের। এর আগেও ২০১৮ সালে আমাদের শিক্ষার্থী প্রথম হয়েছিল। ২০১৭ সালে লিখিত পরীক্ষায় আমাদের প্রথম হয়েছিল। গত সাত বছরে আমাদের শিক্ষার্থী তিনবার প্রথম হয়েছে। এটা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন ভালো করে, তখন সবাই কৃতিত্ব নিতে চায়। মীম শুধুমাত্র ডিএমসি স্কলারের ক্লাস করেছে। আমার কাছে ব্যাচ করেছে। বাসায় তিন মাস এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পড়িয়েছে। মীম সাত মাস আমাদের কাছে পড়েছে। ডিএমসি স্কলার ছাড়া আর কোথাও মীম ক্লাস করেনি, এটি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারব। এটা মীম ও তার গর্বিত বাবা-মাও বলবেন।
এবারের পরীক্ষায় পাস করেছেন ৭৯ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।
ফলাফল অনুযায়ী সরকারি কলেজে ১ হাজার ৮৮৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৩৪৫ জন ছাত্রী ভর্তি হতে পারবেন


