দুইদিন শান্ত থাকার পর আবারও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। ফের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলা ছোড়া হচ্ছে। একইসঙ্গে আকাশে উড়ছে হেলিকপ্টার। বাংকার থেকে ছোড়া গোলার বিকট শব্দে কাঁপছে সীমান্তের বসতিগুলো।
মঙ্গলবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপি সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর এমন আগ্রাসী চিত্রের দেখা মেলে। তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকায় ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। আর কারো উসকানিতে পা না দিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে কাজ করার পরামর্শ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।
জানা গেছে, দুদিন আগেও তুমব্রু পশ্চিমকুল সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে খনন করা হয় বাংকার, রাখা হয় ভারী অস্ত্র। যা দেখা যায় তুমব্রু পশ্চিমকুল সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে।
তবে মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, এ বাংকার ঢেকে দেয়া হয় গাছপালা দিয়ে। যেখানে বাংকার থেকে ওঠানামা করছে মিয়ানমারের সৈন্যরা। আর মাঝে মধ্যে এই বাংকার থেকে ছোড়া হয় গোলা।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টারশেল বাংলাদেশে এসে পড়ায় গত রোববার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। এতে দুদিন বন্ধ ছিল সীমান্তে গোলাগুলি, আর আকাশে উড়তে দেখা যায়নি মিয়ানমারের হেলিকপ্টার। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে কিছুক্ষণ পরপর কয়েকবার আকাশে ওড়ে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার, করা হয় গুলি। যা দেখা যায় তুমব্রু পশ্চিমকুল সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে। এখন সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন এপারের সীমান্তের বাসিন্দারা।
সীমান্তের বাসিন্দা ছৈয়দুল হক বলেন, সীমান্তের খুব কাছাকাছি আমাদের বাসা। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও মিয়ানমারের সৈন্যরা গুলি মারতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণ পরপর এই গুলি করছে। আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি।
আরেক বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, দুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও গোলাগুলি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে আমরা এপার থেকে দেখেছি যে, বাংকারে মিয়ানমারের সৈন্যরা আনুমানিক ১০ থেকে ১২টি মতো মর্টারশেল ছুড়েছে।
তারা তাদের ওপারে মর্টারশেলগুলো ছুড়লে আমাদের এপারের ঘরগুলো বিকট শব্দে ক্ষেপে ওঠে। এতে আমরা আবারও ভয়ের মধ্যে রয়েছি। দুদিন আগেও তাদের বাংকারগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে দেখা যেত। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে বাংকারগুলো গাছপালা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে; যাতে দেখা না যায়। কিন্তু সেখান থেকে ফায়ারের সময় ধোঁয়া বের হয়। আর সৈন্যরা বাংকারে গোলাবারুদ নিয়ে যায়– ওই দৃশ্যও দেখা যায়।
সীমান্তের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত দুদিন ধরে গোলাগুলিও হয়নি আর হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমানও আকাশে ওড়েনি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দুটি হেলিকপ্টার এসেছে কয়েকবার। এরপর গোলাগুলিও হয়েছে, প্রায় ৭-৮টা ফায়ার হয়েছে। তারপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি করেছে কয়েকটা।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তে তো আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান। সীমান্তে আমরা আছি, ঘরবাড়ি ছেড়ে কোথাও যাওয়ার কোনো চিন্তাভাবনাও নেই। এখানে বিজিবি টহলও জোরদার আছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর নুরুল আবছার বলেন, সীমান্ত এলাকা যদি মাইন বসানো হয়, যদি হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া হয়, এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে লঙ্ঘন হয়। কিন্তু আবার এটাও মনে রাখতে হবে, আপনি আরেকজনের উসকানিতে পা দেবেন কি না? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কমোডর নুরুল আবছার আরও বলেন, কথায় বলে, সব দেশেরই একটি মিলিটারি আছে। কিন্তু মিলিটারির একটা দেশ হচ্ছে মিয়ানমার। তাই সবকিছু বিবেচনা করে বাংলাদেশকে কূটনৈতিকভাবে এগোতে হবে। সীমান্তের এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
পিএসএন/এমআই


