
আভ্যন্তরীণ সংঘাতে বিপর্যস্ত সুদানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সবাইকে দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
প্রতিমন্ত্রী ফেসবুকে লিখেছেন- “সুদানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে অন্য দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। খারতুমে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে এই বার্তা সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রচার শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরে নির্ভর করবে, কীভাবে কোন পদ্ধতিতে তারা যাত্রা করবেন। সবাইকে দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে রেজিস্ট্রেশন এবং প্রয়োজনীয় কাজ করার অনুরোধ করছি। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অনুরোধ করছি দূতাবাসে যোগাযোগ না করার জন্য। কারণ সকলেই ব্যস্ত এবং রুটগুলো নিরাপত্তার খাতিরে না জানানোই ভালো। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
সুদানে আভ্যন্তরীণ সংঘাতের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। সম্প্রতি সুদানের সামরিক নেতৃত্বের দুই অংশের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে সহিংসতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। রাজধানী খার্তুমে বোমা বিস্ফোরণ, গোলাবর্ষণ ও বন্দুকের গুলিবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
দেশটিতে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে মূলত বর্তমান সামরিক সরকার চলে। তার সঙ্গে উপনেতা হিসেবে আছেন আরেকটি আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান হেমেডটি ডাগালো। বেসামরিক শাসনে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই দুটি বাহিনীকে একীভূত করার কথা। কিন্তু আরএসএফ তাদের বিলুপ্ত করার বিপক্ষে এবং এই পরিকল্পনা থামানোর জন্য তাদের বাহিনীকে রাস্তায় নামায়। এই ঘটনা সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এই অবস্থায় অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এবার বাংলাদেশও সেই উদ্যোগ নিল।


