সম্প্রতি সুন্দরবনে জল ও বনদস্যুদের অপতৎপরাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী দুই একদিনের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বনজীবীরা যাতে নিরাপত্তার সাথে কাজ করতে পারে সেজন্য দস্যু দমনে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে সরকার।
আজ রোববার সকালে খুলনা সার্কিট হাউসে সুন্দরবনে জলদস্যুত্ াদমনে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সভাটি সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বনবিভাগ, কোষ্টগার্ড, র্যাব, নৌবাহিনী, বিজিবি, ট্যুরিষ্ট ব্যবসায়িসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা থেকে বেরিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অর্ন্তবর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জলদস্যুরা সুযোগ অপতৎপরতার জন্য বেছে নিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার জলদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন,সরকার এখন বুলু ইকোনমির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়। এছাড়া ইকো ট্যুরিজমসহ এ অঞ্চরের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সুন্দরবন ও জলসীমাকে অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে। তিনি এ সময় বনবিভাগের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে বনবিভাগকে আরো কার্যকর করার কথা উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই বনকে ঘিরে কোনো ধরনের জলদস্যুতা বা সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে শিগগিরই সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করায় সুন্দরবন অনেকটায় দস্যুমুক্ত হয়েছিলো। তবে আবারো তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফলে অনেক জেলে বনে মাছ ধরতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এছাড়াও এভাবে চললে ইকো ট্যুরিজম ও ব্লু-ইকোনমি মুখ থুবড়ে পড়বে। সরকারের রাজস্বও হুমকির মধ্যে পড়েছে। তাই সকল বাহিনী ও বনবিভাগের সমন্বয়ে দ্রুতই অভিযানে নামা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা সবার মতামত নিয়েছি। মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের পর সরকার যেভাবে গাইড লাইন দেবে সেভাবেই দস্যু দমনে সমন্বিতভাবে কাজ করবে আইন-শৃংখলা বাহিনী।


