
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিটের আদেশ দেওয়া হবে আগামী বুধবার।
সোমবার (২৭ মার্চ) এ বিষয়ে শুনানি করে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন আদেশ দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী।
গত সোমবার (২০ মার্চ) বিষয়টি জানিয়েছেন রিটকারী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার আগের দিন রোববার (১৯ মার্চ) বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের ১৪ জন প্রার্থীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল) প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তিনিসহ সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী এই রিট আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন।
রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), ঢাকার পুলিশ কমিশনার, ডিবি প্রধান ও শাহবাগ থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পুলিশের বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট আবেদন করেছি। রিটে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাসহ রুল জারির আর্জি জানিয়েছি।
গত ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রথম দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও মারামারি হয়। ওইদিন পুলিশের লাঠিচার্জ ও মারধরের শিকার হন অন্তত ২৫ জন সাংবাদিক ও আইনজীবী।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হট্টগোল ও ধস্তাধস্তির মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়।
গত ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ১৪টি পদের সবকটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়। নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল বিএনপি সমর্থকরা।


