
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে মাশিকাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকতল হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে স্কুলে কোচিং চলাকালে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্র প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, সকালে স্কুলে কোচিং চলছিল। এ সময় অন্য ক্লাসের আরেক ছাত্রীকে দিয়ে ভুক্তভোগীকে ডেকে পাঠান প্রধান শিক্ষক মুকতল হোসেন। পরে ওই শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে তার এক সহপাঠী বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপর ওই শিক্ষককে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এলাকায় মিছিল বের করলে তার পেটোয়া বাহিনী মিছিলে হামলা করে। এতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা স্কুলমাঠে জড়ো হওয়ার একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ও তার মেয়ের জামাইয়ের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও স্কুলের কয়েকটি কক্ষের দরজা ভাঙচুর করে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে দেবিদ্বার-বিপাড়া (সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিরুল্লা ও ওসি কমল কৃষ্ণ ধর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে দুজন গুরুতর আহত হয়। এই দুজনসহ আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, রাত ৯টার দিকে রাবার বুলেটে আহত ৫ জন ছাত্রকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গিয়াস উদ্দিন তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


