ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে রাজধানীর গুলশানের একটি স্পা সেন্টারের ছাদ থেকে লাফিয়ে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, সেই স্পা সেন্টারে কোনোপ্রকার অভিযান ছিল না। বরং ফুটপাত দখলমুক্ত করা ছাড়াও নিয়মিত একটি অভিযান চালাচ্ছিল ডিএনসিসি।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন এই তথ্য জানিয়েছেন।
ডিএনসিসির এই জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, মূলত অভিযানটি ছিল ফুটপাত দখলমুক্ত করা ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স চেক করাসহ আবাসিক এলাকায় বিনা অনুমতিতে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে কি-না এসবের বিরুদ্ধে। স্পা সেন্টারে কোনোপ্রকার অভিযান ছিল না।
মকবুল হোসাইন বলেন, অভিযানের সময় ওই ভবনের গেটে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আভিযানিক দলটি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ভবনের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ভবনের বাসিন্দারা জানতে পারেন এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এমন সময় হঠাৎ ছাদ থেকে দুজন তরুণী পড়ে যায়। পরে তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখতে পেয়ে ওই দুই তরুণীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর ওই স্পা সেন্টারে অভিযান না চালিয়েই ফিরে যান ম্যাজিস্ট্রেট।
এর আগে বুধবার দুপুর ২টার দিকে গুলশানের ৪৭ নম্বর রোডের ‘অল দ্যা বেস্ট’ স্পা সেন্টারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন দুই তরুণী। এ ঘটনায় ফারজানা (১৯) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাত অপর এক তরুণী গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
ফারজানার স্বামী জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, স্ত্রীসহ তিনি খিলক্ষেত এলাকায় থাকতেন। এছাড়া ফারজানা গুলশানে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। সেখানে মোবাইল কোর্টের অভিযান চলছে শুনে ভয় পেয়ে তার স্ত্রী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে।



