খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে নড়াইল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুরি হওয়ার ২৩ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পার বিষ্ণুপুর গ্রাম থেকে নবজাতককে (ছেলে) উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই তোফায়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইলের কালিয়া থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তথ্য যাচাইয়ের জন্য নিঃসন্তান এক দম্পতিকে থানায় আনা হয়েছে। নড়াইলের পার বিষ্ণুপুর গ্রামে একটি নবজাতক বিক্রি হয়েছে, এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে খুলনায় আনা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি তার মা রানিমার কাছে রয়েছে।
ডিএনএ টেস্টের পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে শিশুটিকে বর্তমানে খুমেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রাখা আছে। সেখানে তার মা-ও রয়েছেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি সকালে রানিমা হাসপাতালে ভর্তি হন। দুপুরের দিকে তিনি সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেন। বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তারা ছাড়পত্র নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের গেটে আসেন। এ সময় নবজাতকের বাবা তুরাব আলি ও আত্মীয়স্বজন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা নিয়ে কথা বলছিলেন। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও রোগীর আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি পর্যন্ত পৌঁছায়। নবজাতকটি তার খালা সোনিয়া বেগমের কোলে ছিল। হাতাহাতি ঠেকাতে তিনি কোলে থাকা নবজাতককে পাশের এক নারীর কাছে দেন। ওই নারী নবজাতককে নিয়ে কৌশলে চলে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে নবজাতককে নিতে গিয়ে দেখেন ওই নারী সেখানে নেই। পরে এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজে মাস্ক পরিহিত এক নারীকে নবজাতকটিকে নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। এ ঘটনায় ২৫ জানুয়ারি নবজাতকের নানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।


