
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ৩ শতাধিত চরমপন্থী। দুই শতাধিক অস্ত্র ছাড়াও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দিয়ে রোববার (২১ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের র্যাব-১২ এর ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে আত্মসমর্পণ করেন তারা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলের এসব চরমপন্থীরা চাঁদাবাজি ছাড়াও গুম-খুন, ডাকাতি-ছিনতাই ও অপহরণের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসা এসব চরমপন্থীদের পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এখনো যারা অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থীদের পুনর্বাসনের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসা এসব চরমপন্থীদের পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
সন্ত্রাস দমনে র্যাবের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, র্যাব নানাবিধ ভালো কাজ করে যাচ্ছে, আস্থা অর্জন করেছে। এ জন্যই চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণের জন্য র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। র্যাব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলেও কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আত্মসমর্পণ করা চরমপন্থীদের পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিক জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ’৮০র দশক থেকে এই এলাকার কয়েকটি জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সর্বহারা ও চরমপন্থীরা ঘাঁটি তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ‘সন্ত্রাসের জীবন ছাড়ি, আলোকিত জীবন গড়ি’ স্লোগানে চরমপন্থীরা আলোর পথে ফিরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তখন যেমন সবাইকে পুনর্বাসন করেছিলেন, তেমনই প্রধানমন্ত্রী আজকেও আমাকে আসার আগে বলেছেন- আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের আর্থিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
এ দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল), লাল পাতাকা ও সর্বহারাসহ বেশ কয়েকটি চরমপন্থী দলের ৩১৫ জন চরমপন্থী র্যাবের মধ্যস্থতায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের সাধুবাদ জানান র্যাব মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন। সেই সঙ্গে এখনো যারা আত্মসমর্পণ করেনি, অপরাধ-সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ-আল-মামুন, র্যাব-১২ এর অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মারুফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদারসহ র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ২০২০ সাল থেকে সদর দফতরের নির্দেশনায় কার্যক্রম শুরু করে র্যাব-১২। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রাথমিকভাবে র্যাব চরমপন্থীদের দলের নেতা ও পরিবারের সদস্যদের আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে গরুর খামার, পোলট্রি ফার্ম, মাছ চাষ, চায়ের দোকান, ভ্যান-রিকশা ও সেলাই মেশিন দেওয়া, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করে।


