বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে খুলনার সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করে গত তিনদিন ধরে লোডশেডিংয়ে নাকাল খুলনাবাসী। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুতের লুকোচুরি চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, গ্যাস ও ডিজেলের সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ওজোপাডিকোর সূত্রে জানা যায়, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুরসহ ২১ জেলায় গ্রাহক রয়েছে ১৪ লাখ ২৮ হাজার। সোমবার পদ্মার এ পাড়ের ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১৩৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দিনে অফপিক আওয়ারে ৭৬ মেগাওয়াট এবং রাতে পিক আওয়ারে ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। ফলে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ রেখে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে।
পলী বিদ্যুতের গ্রাহক দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য গাজী ফয়সাল আলম বলেন, প্রতিদিন বিদ্যুৎ সকালে চলে যায় এবং রাত ১০টার ভেতরে মাঝে মধ্যে আসে। এই কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে। কৃষি কাজেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। গভীর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি বন্ধ থাকে, এই সুযোগে চুরি ডাকাতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।
রূপসা উপজেলার দক্ষিণ নন্দনপুর এলাকার লাকি বেগম বলেন, আগের মতো আবারও লোডশেডিং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না। সেই আগের মতো লোডশেডিংয়ের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় মাসখানে ধরে বিদ্যুতের সমস্যা খুব বেশি হচ্ছে।
খুলনা পলী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জিলুর রহমান বলেন, লোডশেডিংয়ের খুব খারাপ অবস্থা। গ্যাস ঘাটতির কারণে উৎপাদন বিঘিœত হওয়ায় এ লোডশেডিং হচ্ছে ।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) খুলনা সদর দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন বলেন, পদ্মার এপাড়ের ২১ জেলার শহর অঞ্চলে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ২৮ হাজার। খুলনায় আমাদের গ্রাহক আছে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার। ২১ জেলায় মোট ৫৮০ মেটাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। এর ঘাটতি আছে ৩০-৩৫ মেটাওয়াট। আর খুলনায় ঘাটতি আছে ১২ মেগাওয়াট। এটা ফিক্সড থাকে না, ওঠানামা করে।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কমেছে। গত তিনদিন এমন চলছে। এটা শুধু খলনায় নয়, সারাদেশে হচ্ছে।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্যাস এবং ডিজেলের সংকটের কারণে বিদ্যুতের সরবরাহ কমেছে। দ্রুত এই অবস্থার অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী।
গত ২৯ জুন দেশে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৩ হাজার ১৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট। তাতে আমদানি করা গ্যাস অর্থাৎ এলএনজি ছিল ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এরপর থেকে প্রতিদিনই গ্যাস সরবরাহ একটু একটু করে কমানো হয়েছে। সোমবার গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ২ হাজার ৮২২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি ৫০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা বলছে, আজ সোমবার দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ২৯ জুন ছিল ১ হাজার ৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। এই দুই দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৬৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমাতে দেখা গেছে। এই গ্যাস-রেশনিংয়ের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে।
এর আগে রবিবার (৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে এক স্ট্যাটাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দুঃখ প্রকাশ করে লোডশেডিংয়ের কারণ জানান।
ওই স্ট্যাটাসে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে।
পি এস /এন আই

