খুলনা(১৫ অক্টোবর)
খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা প্রদান বন্ধ, অনিয়ম পাওয়া গেলে ইজারা বাতিল এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাস মণ্ডল। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বটিয়াঘাটা ও দাকোপের কৃষি, মৎস্য আহরণ, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার অভিযোগে কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের পানির ব্যবহার, মাছ আহরণ এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির ঝুঁকি বাড়ে।
বক্তারা বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোন্ধামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, গত ১৭ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে এসব খালের ইজারা বন্ধ ও উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণার দাবিতে আবেদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নেট-পাটা অপসারণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি জানানো হয়, বটিয়াঘাটা ও দাকোপের প্রবহমান নদী-খালের ইজারা কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই, অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। বক্তারা বলেন, তাঁরা বৈধ মৎস্য ব্যবস্থাপনার বিরোধী নন; বরং কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সংবাদ কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লোকজ-এর নির্বাহী পরিচালক দেব প্রসাদ সরকার, কৃষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি দীপ্তি রাণী মল্লিক, আশালতা ঢালী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান লাভলু, ঠাকুরদাস মণ্ডল, শ্যামল সরকার, লোকজ-এর সমন্বয়কারী পলাশ দাশ প্রমূখ।


