
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আগামীকাল রোববার থেকে এসব অস্থায়ী হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু বেচাকেনা শুরু হবে। তবে এরই মধ্যে পর্যাপ্ত গরু উঠেছে প্রতিটি হাটে। এখন অপেক্ষা ক্রেতার।
আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের পাঁচ দিন আগে নগরীর হাটগুলোতে পশু বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এক সপ্তাহ আগেই অনেকে গরু এনেছেন। ক্রেতার দেখা না মিললেও হাটে পশু পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় কাটছে ব্যবসায়ী ও খামারিদের।
হাজারীবাগ ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ বহু স্থানে হাটের তোরণ দেওয়া হয়েছে। যেখানে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানা বার্তা লেখা আছে। হাটের মূল প্রাঙ্গনে বাঁশের খুঁটি বসানোর কাজ প্রায় শেষ। দেওয়া ভিটে বালু। প্রস্তুত হচ্ছে নতুন নতুন অস্থায়ী শেড। শ্রমিকরাও হাট সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল ছাউনি। এছাড়া একাধিক হাসিল ঘর তৈরি করা হচ্ছে।
মাঠে কাদা ও উঁচু-নিচু জায়গা সমান করতে মাটি ও বালু ফেলা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও র্যাবের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সবমিলিয়ে গেট বানানোসহ আনুষাঙ্গিক কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে।
সবমিলিয়ে ৯০ শতাংশ কাজ প্রায় শেষ। ভোগান্তি কমাতে পর্যাপ্ত হাসিল ঘর তৈরি করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরা নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করছে। গড়ি পার্কিং নিয়ে ঝামেলা এড়াতে তারা কাজ করবে। এছাড়াও পানি, গোসলখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাটে ১৩টি গরু নিয়ে এসেছেন সামসুদ্দিন। আলাপকালে তিনি জানান, কিছু গরু নিয়ে গতকাল এসেছি। আমার আগেও কেউ কেউ এসেছেন। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি বাড়ায় একটা আগেই এসেছি। পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে আরও গরু আসবে। পশুর দেখভালের জন্য তিনজন লোকও এসেছেন তার সঙ্গে।
গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা চড়া যাবে বলে ধারণা সামসুদ্দিনের। কারণ হিসেবে বলছেন, গরুর সব খাবারে দাম বেড়েছে। ভূষি, খৈল, ভাত রান্নার খুদের দাম বেড়েছে। তাই গরুর দামও বেশি হবে।
বর্তমানে খাবারের বাজারদর জানাতে গিয়ে বলেন, খুদের বস্তা ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা, যা গতবারের চেয়ে বেশ বেড়েছে। খৈল ৭২ কেজির বস্তার দাম ৩২০০-৩৩০০ টাকা নেয়, যা গতবার ২২ থেকে ২৬ শ টাকায় কিনেছি।


