গতকাল ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এমপির সঙ্গে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (কাউটা) সদস্যরা বৈঠক করেন। আলোচনার পর আমরা তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য স্মারকলিপি দিয়েছে খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
আবেদনঃ
ডা. দীপু মনি, এম.পি.
মাননীয় মন্ত্রী
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
বিষয়ঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশনা প্রত্যাহারের আবেদন প্রসঙ্গে।
মহাতœন,
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা দক্ষিণবঙ্গের লবনাক্ততা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বৈরি আবহাওয়ায় কৃষি উন্নয়নে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় (খুকৃবি) আইন পাশ করেন। পরবর্তীতে আপনি নিজে স্বশরীরে খুলনায় এসে ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন। বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০২০ সালে ৭৩ জন শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও এসব শিক্ষকগণ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, গত ৩ আগস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দে ৩৭.০০.০০০০.০৭৯.১১.২১১.১৭.২৭৬ নং স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক খুকৃবির ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ আদেশ বাতিলের এক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে যে, নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৩ জন শিক্ষকের (৭ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬৬ জন প্রভাষক) সিলেকশন বোর্ড বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ছাড়া একই ব্যক্তিবর্গকে দিয়ে গঠন করা হয়েছিল। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় আইন ২০১৫ মতে কেবল অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগের বাছাই বোর্ডে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ সদস্য রাখার বিধান রয়েছে, কিন্তু সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত বিধানের উল্লেখ নেই। কাজেই ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ রাখার সুপারিশটি খুকৃবি আইনের ১ম সংবিধির ৫৭৯৪ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখিত অনুচ্ছেদ ২(২) এর পরিপন্থী। তাই উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্তটি যুক্তিযুক্ত নয় বলে আমরা মনে করি।
এহেন অনাকাংখিত, আকস্মিক খবরটি প্রচারের পর থেকে খুকৃবির শিক্ষকবৃন্দ পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে ভীষণ বিব্রতকর সময় অতিবাহিত করছেন। ফলশ্রুতিতে তাদের পক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক পাঠদান, পরীক্ষা নেওয়া ও গবেষণা কার্যক্রমে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
একজন শিক্ষকের জীবনে সব থেকে বড় চাওয়া হলো তার সম্মান, আর সেই সম্মানটুকুই যদি না থাকে তবে একজন আদর্শ শিক্ষক তার বেঁচে থাকাকেই অনর্থক মনে করেন। আজ খুকৃবির অধিকাংশ শিক্ষকই মানসিক যন্ত্রনাকাতর সময় অতিবাহিত করছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নব প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম খুব শিঘ্রই স্থবির হয়ে যেতে পারে বলে আমরা আশংকা করছি।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,
আপনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রাথমিক থেকে বিশ^বিদ্যালয় অবধি প্রতিটি স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। যার প্রধান উদাহরণ হল: জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা প্রনয়ণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং করোনা মহামারীর সময়েও অনলাইন শিক্ষা চালু রেখে সমগ্র দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেশনজট মুক্ত রাখা।
পরিশেষে, আপনার নিকট আকূল আবেদন এই যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক খুকৃবির শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশনাটি অতিসত্ত্বর প্রত্যাহার করে শিক্ষকদের স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালু রাখতে আবারও আপনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করবেন।


