শুক্র ও শনি দু’দিন দুপুরেই প্রচন্ড ঝড়, শরণখোলায় শতাধিক বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত
আসাদুজ্জামান মিলন, শরণখোলা থেকে
শনিবার দুপুরে ও শরণখোলায় প্রচন্ড ঝড়, দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। এসময় শরণখোলা মোরেলগঞ্জ সড়কের জলিলের ব্রীজ এলাকা দিয়ে উপজেলা পরিষদে ফেরার পথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর ই আলম সিদ্দিকীর সরকারি গাড়িটি ঝড়ে উপরে পড়া একটি রেইনট্রি গাছের নীচে চাঁপা পড়ে। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যান নির্বাহী কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সকালে শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেরার পথে প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। গাড়ি টি চলমান অবস্থায় আকষ্মিক ভাবে রাস্তার পাশের একটি রেইনট্রি গাছ উপরে পড়ে গাড়ির উপর পড়ে। এতে গাড়ি টি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমি ও আমার সাথে থাকা স্টাফদের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। আমরা সবাই সুস্থ্য আছি। শুক্রবার দুপুরে ও শরণখোলা ব্যাপক ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়েছে।
পরপর দু’দিন প্রায় একই সময় শরণখোলায় ব্যাপক ঝড়, বজ্রপাত ও ভারি বর্ষন হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ ঘরগুলোই ঝড়ে উপরে পড়া গাছের নীচে চাঁপা পড়ে দুমড়ে মুসরে গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামের জাহাঙ্গীর ফকির, পশ্চিম কদমতলা গ্রামের হানিফ গাজী, রায়েন্দা বাজার পাঁচ রাস্তা এলাকার বিলকিস বেগমের ঘর গাছ চাঁপা পড়ে অনেকটা মাটির সাথে মিশে গেছে। ঝড়ের সাথে ভারি বর্ষনের ফলে পরিবার গুলোকে অবর্ননীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে বজ্রপাতে রাজৈর গ্রামের কৃষক এমাদুল হাওলাদারের একটি গরু মারা গেছে। উপজেলার বেশকিছু এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
উপজেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ অধিদপ্তরে খোজ নিয়ে জানাগেছে, দু’দিনের ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে ইতোমধ্যে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে।


