
লক্ষ্মীপুরে বিএনপির পথযাত্রায় যোগ দিয়ে নিহত বিএনপির কর্মী সজিবের (১৮) গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কয়েকদিন পর সজিবের বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (১৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের (৮ নম্বর ওয়ার্ড) ধন্যপুর গ্রামের কফিল মেম্বার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সজিবের মা নাজমা বেগম ও বোন কাজল আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কিছুইতে থামছে না মা-বোনের কান্নার আহাজারি। বাড়ির উঠানে বসা বাবা আবু তাহের বাকরুদ্ধ। চুপচাপ একটি চেয়ারে বসে আছেন। আশপাশের প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখেমুখে ও কষ্টের চাপ দেখা গেছে। কারণ সজিব ছিল তার পরিবারের সকলের ছোট।
সজিবের মা-বাবাকে সান্তনা দিতে ছুটে এসেছেন চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়ত হোসেন স্বপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দীন।
সজিবের মা বারবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সবাই আমার বাড়িতে, সজিব তুই কই? বাবারে তুই বুঝি আমার জন্য আর ওষুধ কিনে আনবি না? মা তোকে বুকে ধরে রাখতে চায়। তুইতো আমার সবচেয়ে আদরের।
সজিবের বাবা জানান, সজিব পেশায় টাইলস মিস্ত্রি। সেই তার মেঝো ভাই সুজনের সঙ্গে কাজ করত। তারা ৩ ভাই। বড়-ভাই মিজান সৌদিআরব প্রবাসী। কয়েকদিন পর সজিব ও সৌদিআরব যাওয়ার কথা ছিল। সবজি গ্রামের সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতেন। গতকাল যখন সজিব বিএনপির মিটিংয়ে যায়, আমাকে বলছে বাবা আমি একটু লক্ষ্মীপুর থেকে আসি। সজিব তার বাড়ি আসলো না। সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাফায়ত হোসেন স্বপন জানান, সজিব আমাদের দলের একজন সক্রিয় কর্মী। তার বাড়ি চন্দ্রগঞ্জে হলেও, সেই সবসময় চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে মিছিল-মিটিং যেত।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, বেলা ১১টার দিকে সজিবের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার প্রথম জানাজা নামাজ লক্ষ্মীপুরে হবে। তারপর দ্বিতীয়টা তার গ্রামের বাড়ি ধন্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হবে।
উল্লেখ্য: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল (১৮ জুলাই) বিকেলে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নেতৃত্বে জেলা বিএনপির আয়োজনে পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিপুল নেতাকর্মী। এ পথযাত্রা থেকে বিএনপি-আওয়ামী-লীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। একপর্যায়ে পুরো লক্ষ্মীপুর শহর রণক্ষেত্র পরিণত হয়। সন্ত্রাসীতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন সজিব।


