স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বাসের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন খুলনার যাত্রীরা। তবে কমেনি ট্রেনের যাত্রীও। ভোগান্তি এড়াতে এখনও অনেকে পছন্দ ট্রেন।
সূত্রানুযায়ী, খুলনা থেকে দৌলতদিয়া, মাওয়া এবং ট্রেনে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত। যাতায়াতের পথে দৌলতদিয়া ও মাওয়া ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। ট্রেনের যাত্রা আরামদায়ক হলেও ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা। এটাকেও যাত্রীরা ভোগান্তি মনে করছেন।
সড়ক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, খুলনা থেকে দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকার দূরত্ব প্রায় চারশ’ কিলোমিটার। বাসে যেতে সময় লাগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। সময়মতো ফেরি না পেলে আরও ২-৩ ঘণ্টা যোগ হয়। অন্যদিকে খুলনা থেকে মাওয়া হয়ে ঢাকার পথ মাত্র ১৮৭ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু চালুর আগে খুলনা থেকে মাওয়া পর্যন্ত যেতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। আর ফেরি পার হতে সময় লাগতো ২ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। এতে করে ১৮৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কখনো কখানো ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যেত।
কিন্তু পদ্মা সেতু চালুর পর মাওয়া ফেরিঘাটের ভোগান্তি মোটেও নেই। ৫-৬ ঘণ্টার সেই ভোগান্তি দূর হয়ে সেখানে পদ্মা পাড়ি দিতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ মিনিট। ফলে পদ্মা সেতু চালুর পরপরই খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার হিড়িক পড়ে মানুষের। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে এখন সেই হিড়িক একটু হলেও কমেছে। তবে ঘরমুখো মানুষের পছন্দ এখনও বাসে পদ্মা সেতু হয়ে খুলনায় আগমন।
অপরদিকে খুলনা রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতোই যাত্রীরা দীর্ঘ লাইন দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন। সবকিছু রয়েছে আগের মতোই।
স্টেশন থেকে রাতে ও ভোরে নিয়মিত যাত্রী বহনকারী রিকশাচালক আব্দুর রউফ বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ২/৩ দিন একটু যাত্রী কম ছিলো। কিন্তু এখন আবার ঠিক হয়ে গেছে। ভোরে স্টেশনে এসে দেখা যায় রাতে যে ট্রেন ঢাকা থেকে ছেড়ে এসেছে তাতে প্রচুর যাত্রী রয়েছে।
খুলনা থেকে নিয়মিত ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী গোলাম হায়দার বলেন, ব্যবসার কাজে আমাকে মাসে বেশ কয়েকবার ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া দূরহ হয়ে দাঁড়ায়। ট্রেন যাত্রায় সময় বেশি লাগলেও ঘাটে থেমে থাকার ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। পদ্মা সেতু চালুর পরও ২-৩ বার ঢাকায় যেতে হয়েছে। কিন্তু যাত্রীর সংখ্যা কমতে দেখিনি।
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার (পরিদর্শক, ট্রাফিক) শামিমুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ২-১ দিন একটু যাত্রী কম হয়েছিলো। কিন্তু এখন আবার তা স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় খুলনা থেকে ঢাকা বা অন্য জেলায় যাত্রী যাতায়াতের সংখ্যা সব সময় কম থাকে। ঢাকা থেকে খুলনায় আসার যাত্রীর চাপ থাকে বেশি। কিন্তু কোরবানির সময় সেই সংখ্যা কমে যায়। ফলে স্পেশাল ট্রেন সংযুক্ত করা হয় না। যারা বলছেন, ট্রেনে যাত্রী কমে গেছে তারা গুজব রটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পদ্মা সেতুর প্রভাব ট্রেনের উপর পড়বে কিনা তা আরও একমাস পর বোঝা যাবে।
খুলনা ইমাদ পরিবহনের রয়েল মোড় কাউন্টারের ম্যানেজার শরীফ আল মামুন বলেন, খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে প্রতিদিন ২৩টি বাস ছেড়ে যায়। পদ্মা সেতু চালু উপলক্ষে আরও ২টি বাস বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর কয়েকটা দিন যাত্রীর সংখ্যা খুব বেশি ছিলো। কিন্তু এখন ঢাকার যাত্রী কিছুটা কমে গেছে। ঈদের পর হয়তো আবারও বাড়তে পারে।
সোহাগ পরিবহনের রয়্যাল মোড় কাউন্টারের সহকারী ম্যানেজার মো. বুলবুল বলেন, খুলনা-ঢাকা দুটি গাড়ি চলতো। এখন এই পথে ভোগান্তি হবে না। তাই আরও বাস বাড়ানো হয়েছে। তবে এখন বাসে স্বাভাবিক হারেই যাত্রী চলাচল করছে।


