
বরিশাল নগরীতে ছাত্রলীগ কর্মী রেদোয়ান আহম্মেদ আকন রাধোর (২৬) একটি হাত বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষ। সোমবার (৩ জুলাই) দিবাগতরাতে বরিশাল জিলা স্কুলের পিছনের গেটে এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার জুনায়েদ আল মামুনকে (২৪) একমাত্র নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীর বাবা জয়নাল। মামলার প্রেক্ষিতে তানভীর হাওলাদার নবীন (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আহত রেদোয়ান বর্তমানে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও নির্দিষ্ট কারও অনুসারী নন বলে জানিয়েছেন তার বাবা আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন। তবে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান জানিয়েছেন রেদোয়ান তার অনুসারী।
গ্রেফতার নবীন নগরীর ভাটিখানা সুন্নিয়া মসজিদ এলাকার লিটন হাওলাদারের ছেলে। মামলার প্রধান আসামি মামুন নগরীর বেলতলা এলাকার বাসিন্দা মো. শামসুর ছেলে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নামধারী আসামি মামুন (৩০) আহত রেদোয়ানের পূর্ব পরিচিত এবং তাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধ রয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মামুন ফোন করে রেদেয়ানকে জিলা স্কুলের পিছনে গেটে নিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মামুনসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন রেদোয়ানকে মারধর করে। পরে অজ্ঞাতরা রেদোয়ানের বাঁ হাত টেনে ধরে। তখন মামুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কনুইয়ের উপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
ভূক্তভোগীর বাবা জয়নাল আবেদীন জানান, হাসপাতাল থেকে রাত ১২টার দিকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা পৌঁছালেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় হাতটি জোড়া লাগানো যায়নি। তার হাত থেকে রক্তপাত চলমান থাকায় অবস্থা ভালো নয়। রেদোয়ান অচেতন হওয়ার আগে মামুনসহ বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছিলো।
রেদোয়ানের খালাতো ভাই খলিল সিকদার বলেন, রেদোয়ান ৫-৬ বছর আগে মামুনকে মারধর করায় তাদের মধ্যে শত্রুতা হয়। মারধরের ঘটনার পর দ্বন্দ্ব মিমাংসা হলে তারা মিলেমিশে চলতো। ঘটনার দিন মামুনের ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে গেলে অজ্ঞাতরা তাকে ঘিরে ধরে হাত কেটে দেয়। এছাড়াও তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মেরে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিলো। কিন্তু রেদোয়ানের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ চলে আসলে হামলাকারীরা যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নবীন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি রেদোয়ানের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত কিনা তদন্ত করা হবে। এছাড়া হাত বিচ্ছিন্ন করায় ব্যবহৃত ধারালো রামদাটি উদ্ধার করেছি।


