
মশার লার্ভা পাওয়ার পরও যেসব সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বাসা বাড়ির লোকজন সচেতন হননি, সরেজমিনে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে মেয়রদের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, কয়েকবার সতর্ক করার পরও যেসব বাসা-বাড়ি এবং সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে তাদের পানির লাইনসহ সব ধরনের ইউলিটির লাইন কেটে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বুধবার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন ভবনও মশা জন্মানোর জায়গা। এসব নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপর না শুনলে জরিমানা, আইনগত ব্যবস্থা এবং সর্বশেষে এসব ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ভারতসহ মালেশিয়া, ফিলিপাইন এবং সিংগাপুরের থেকে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো আছে। পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়ার জন্যই আজকের এই সভা বলে জানান তিনি।
যাদেরই ডেঙ্গু হচ্ছে তারা যেন বাসায় না থেকে হাসপাতালে ভর্তি হোন সেই আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি সব সরকারি হাসপাতালে সিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছেও বলে জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী। এছাড়াও সভায় বিটিআরসির মাধ্যমে সব মোবাইল গ্রাহকের কাছে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক মেসেজ পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম জানান, গত ১১ দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মশার লার্ভা পাওয়ার বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


