মিতু হত্যার ঘটনায় বাবা মোশাররফ হোসেনের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে স্বামী বাবুল আকতারের মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিবিআই। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে এ মুহূর্তে কোনো মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে তা অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করবে বলে দাবি করছেন বাদী এবং আসামি দু’পক্ষই।
দুর্বৃত্তের হাতে গৃহবধূ মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পর স্বামী বাবুল আকতার এবং ২০২১ সালে বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা দুটি মামলায় এখন তদন্ত করছে পিবিআই। কিন্তু এক ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের নজির না থাকায় এই তদন্ত নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাবুল আকতারকে আসামি করে মোশাররফ হোসেনের করা মামলাতেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে যাচ্ছে পিবিআই।
বাবুল আকতারের বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রথমে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে দায়িত্ব পায় পিবিআই। আর এতেই বের হয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আকতারের সম্পৃক্ততার তথ্য। যে কারণে প্রথম পর্যায়ে পিবিআই এ মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। এমনকি শ্বশুর মোশারফের করা মামলায় জামাতা বাবুল আকতারকে গ্রেফতার করে রিমান্ডেও নেয়। এক্ষেত্রে শুনানি পর্যায়ে এক ঘটনায় দু’মামলা সংক্রান্ত জটিলতা দৃশ্যমান হয়ে উঠলে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেয়। তবে, এই অবস্থায় কোনো একটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে আইগত জটিলতা আরও প্রকট হবে বলে মনে করছেন দু’পক্ষের আইনজীবীই।
ইতোমধ্যে মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় একাধিক আসামি এবং সাক্ষী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যেখানে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আকতারের জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে সেই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েও জটিলতার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
পিবিআইর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন যে মামলাটার বাদী ছিলেন, সেটার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে যাচ্ছি। প্রথম মামলাটাকে আদালতের পর্যবেক্ষণে একটি সফল মামলা বলা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের আলামত জব্দ করা রয়েছে, কিছু ১৬৪ করা আছে, যেগুলো মামলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে আমরা প্রথম মামলাটার জন্য অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।
২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে নগরীর জিইসি মোড়ে সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। প্রথম পর্যায়ে এটি জঙ্গিদের হামলা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীকালে পারিবারিক বিরোধে বাবুল আকতার নিজেই ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে মিতুকে হত্যা করেছে বলে বের হয়ে আসে। বর্তমানে বাবুল আকতার ফেনী কারাগারে রয়েছেন।
পিএসএন/এমআই


