টাকার অংকটা শুনলেই যে কারো চোখ কপালে উঠে যাওয়ার কথা। ৩৫ বছর বয়সী এক ফুটবলারকে শুধু এক বছরেই পারিশ্রমিক দিতে চায় ৪ হাজার ৬১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা প্রায় (৪০০ মিলিয়ন ইউরো)।
এত বড় অংকের পারিশ্রমিক প্রস্তাব দিয়ে লিওনেল মেসিকে কিনতে চায় সৌদি ক্লাব আল হিলাল। বছরের শুরুতেই আরেক সৌদি ক্লাব আল নাসর এর অর্ধেক পারিশ্রমিকে কিনে নিয়েছিলো পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।
মেসিকে এতবড় পারিশ্রমিকের প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন ইএসপিএনের ফুটবল বিষয়ক বিখ্যাত সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। ইএসপিএন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
যদিও তারা সেখানে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর কথা সরাসরি লিখেনি। লিখেছে, মোর দ্যান ৪০০ মিলিয়ন ইউরো। অর্থ্যাৎ, মেসিকে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি। ৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকারও বেশি অংকের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে আল হিলালের পক্ষ থেকে।
পেট্রোডলার খরচ করার সবচেয়ে বড় জায়গা তৈরি করে ফেলেছে সৌদি আরবের ফুটবল ক্লাবগুলো। যাদের পেছনে বিনিয়োগ করছে বড় বড় আরব শেখরা। তারা এখন ফুটবলের রাজধানী হিসেবে সৌদি আরবকে তুলে ধরতে চায়। সে লক্ষ্যেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে পেতে যায় যে কোনো মূল্যে।
মেসির পারিশ্রমিক যদি বছরে ৪০০ মিলিয়ন ইউরো (৪ হাজার ৬১৫ কোটি ২২ লাখ ৭৮ হাজার ৫২০ টাকা) হয়, তাহলে তার মাসিক পারিশ্রমিক হবে প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা। প্রতিদিনে তার পারিশ্রমিক হবে, প্রায় ১২ কোটি ৬৫ লাভ টাকা, ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক পড়বে ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৫ টাকা এবং প্রতি মিনিটে মেসির পারিশ্রমিক হবে প্রায় ৮৮ হাজার টাকা।
পিএসজিতে যখন পারিশ্রমিক নিয়ে একটা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছেন মেসি, যখন পিএসজির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, নতুন চুক্তিতে ৩০ ভাগ পারিশ্রমিক কমিয়ে দেয়া হবে এবং এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে মেসি যখন প্যারিস ছাড়ার সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিশ্চিত করে ফেলছেন, তখনই এলো আল হিলাল থেকে স্বপ্নের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিকের প্রস্তাব।
আবারা একই সঙ্গে মেসিকে ফেরাতে জোর কদমে কাজ করে যাচ্ছে বার্সেলোনা। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে তারা মেসিকে ফিরে পেতে কথা বলতে শুরু করেছে। বার্সা কোচ জাভিও প্রকাশ্যে বলেছেন, মেসি যেন তার সাবেক ক্লাবেই ফিরে আসেন। যদিও বার্সায় গিয়ে কাঙ্খিত পারিশ্রমিক মেসি পাবেন কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
মেসি কোন প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আল হিলালে যাবেন নাকি বার্সায়? নিজের পুরনো ক্লাবে ফিরে যাবেন নাকি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার পেছনে সৌদি আরব ছুটে আসবেন?
যদি মেসি সৌদি প্রো লিগকেই বেছে নেন, তাহলে এখানেই আবার জমে উঠবে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ। তখন, সত্যিকার অর্থেই পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ গিয়ে পড়বে সৌদি আরবের ওপর।


