
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আম্বিয়া বেগম (৪৫) নামে এক বিধবা নারীকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কিছমত জামুয়া গ্রামে এই হত্যাকান্ডটি ঘটে। নিহত আম্বিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত সেকান্দার আলী খানের স্ত্রী ছিলেন। বাদশা খান নামে এক ছেলে রয়েছে তার।
হত্যার শিকার আম্বিয়া বেগম কিসমত জামুয়া গ্রামের সেকেন্দার আলী খানের স্ত্রী। তার একমাত্র ছেলে বাদশা খান চাকুরী সুবাদে ঢাকায় থাকতেন। যার ফলে নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন এই নারী। স্থানীয়দের সাহায্য সহযোগিতা ও ছেলের পাঠানো সামান্য অর্থে কোনোমতে চলতো আম্বিয়ার দিন। কি কারনে আম্বিয়াকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাতে পারেনি স্থানীয়রা।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আব্দুল আজিজ বলেন, আম্বিয়ার স্বামী সেকেন্দার আলী ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন।স্বামী মারা যাওয়ার পরে খেয়ে না খেয়ে দিন যেত আম্বিয়ার। সে সরকারি জায়গায় ঘর বানিয়ে ছিলেন। সকালে ঘরের বাইরে রক্ত দেখে এক ব্যক্তি আমাকে জানায় এই হত্যাকান্ডের বিষয়।পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. শাহজাহান আলী জানান, উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কিছমত জামুয়া গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে মৃত সেকান্দার আলী খানের ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী আম্বিয়া বেগমকে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার সময় নিহতের কোন স্বজন বাড়ীতে না থাকার সুযোগ নিয়ে বিধবা ওই নারীকে জবাই করে হত্যা করে লাশ ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে নিহতের স্বজনেরা ঘরের খাটের উপর জবাই করা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। হত্যার রহস্য উদঘাটনে মোরলগঞ্জ থানা পুলিশ,পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করেছে।
খরব পেয়ে মোরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমানসহ থানা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


