হত্যা মামলা দায়ের
আসাদুজ্জামান মিলন, শরণখোলা থেকে
শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের ওয়াপদা সংলগ্ন এলাকায় তিন সন্তানের জননী ও বিধবা রাজিয়া বেগম (৬৫) ঘরের জানালার গ্রীলের সাথে চিকন নাইলনের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় । পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে । ঘটনার মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রাপ্ত ময়না তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় নিহত রাজিয়া বেগমের মেয়ে টিটি এ্যান্ড ডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মারুফা আক্তার বাদী হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে , স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা রাজিয়া বেগম তার বড় মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা মারুফা বেগমের সাথে তার বাসায় থাকতেন। ২৪ মে সকালে মারুফা অন্যান্য দিনের মত তার মাকে বাসায় রেখে স্কুলে চলে যায়। এর কিছু সময় পর ঐ এলাকার এক শিশু জানালার গ্রীলের সাথে রাজিয়া বেগমের লাশ ঝুলে থাকতে দেখে অন্যদের খবর দেয়। প্রতিবেশীরা এসে রাজিয়া বেগম কে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন ।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন আরো জানান, লাশের অবস্থান ও পারিপার্শিকতায় কিছু অমিল থাকায় রাজিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করা হয় । এ ব্যাপারে সে সময় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে হয় বলে জানান তিনি। কিন্তু ঘটনার এক মাসের ব্যবধানে গত ২৫ জুন তার ময়না তদন্ত রিপোর্টে তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ । এ ঘটনায় নিহত রাজিয়া বেগমের মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা মারুফা আক্তার বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।
মামলার বাদী স্কুল শিক্ষিকা মারুফা বেগম জানান, প্রতিদিনের মত ঐ দিন ও আমি আমার মাকে বাসায় রেখে স্কুলে যাই। কিছু সময় পর প্রতিবেশীদের মাধ্যমে মায়ের মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। তবে কি কারনে তার বৃদ্ধা মা খুন হতে পারেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি সে।
নিহত রাজিয়া বেগমের এক পুত্র মনির হোসেন বোনের বাসার নিকটবর্তী নিজেদের বাড়িতে এবং অপর পুত্র মাহাবুব চাকরী সূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন। তাদের পিতা মাষ্টার হারুন হাওলাদারও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন।


