
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা হাইস্কুলে শিক্ষকের প্রহারে নবম শ্রেণির ছাত্র রাজপ্রতাপ দাশের মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার ৪ শিক্ষক আসামির জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কালিগঞ্জ) রাকিবুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করেন। এরা হলেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোনায়েম পাড়, সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল মহিত, সহকারি শিক্ষক অবকাশ চন্দ্র খাঁ ও সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরী।
সাতক্ষীরা আদালতের আইনজীবী জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চার আসামির জামিনের জন্য সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কালিগঞ্জ) আদালতে আবেদন করা হয়। দুপুরে শুনানী শেষে বিচারক রাকিবুল ইসলাম তাদের চারজনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাব।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মত পাঠদান বন্ধ রয়েছে কালিগঞ্জের নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভিতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম। বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ।
প্রসঙ্গতঃ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালিগঞ্জের নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স¤প্রসারিত ভবনের তৃতীয় তলায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটছিল তার ৫/৬ জন সহপাঠী। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলো বিদ্যলয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রাজপ্রতাপ দাশ, মুশফিকুর রহমান, জোবায়ের ও আর রাফি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অবকাশ চন্দ্র খাঁ ও মনিরুল ইসলাম বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় রাজপ্রতাপ দাশসহ ৪ জনকে মারধর করেন শিক্ষক অবকাশ চন্দ্র খাঁ। পরে বাড়িতে যেয়ে অসুস্থ বোধ করায় হাসপাতালে পাঠানোর পথে মারা যায় রাজ প্রতাপ। এতে উত্তেজিত জনতা স্কুলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ৫ শিক্ষকের নামে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ছাত্রের বাবার দায়েরকৃত মামলার ৫ আসামির মধ্যে ৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।


