শেখ মাহতাব হোসেন
ডুমুরিয়া, খুলনা
খুলনার ডুমুরিয়া জনসনে লবণাক্ত পতিত জমিতেই এখন হলুদ রঙের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। উপকূলঘেঁষা এলাকা ও তালার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের চছে সাফল্য আসাত জেলায় ভোজতেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম খরচ, আল্পসময় এবং সরকারি প্রণোদনা এই তিন কারণে সূর্যমুখী চাষে কথকদের আগ্রহ বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ৯টি উপজেলায় মোট ৪৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ৪২২ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবযানে আবাদ বেড়েছে ২০ হেক্টর।
খুলনা জেলায় আটক কোটি লিটার ভোজ্য তেল উৎপাদন হবে। এতে করে দুই লক্ষ মানুষের ভোজ্য তেল চাহিদা মিটাবে। সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
ডুমুরিয়ায় ১০৭ হেক্টর জমিতে এ ফসলের চাষ হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার মডেল মসজিদের সামনের মাঠে গেলে চোখে পড়ে বিষ্টার্ণ হলুদের আভা। দূর থেকে মনে হয় যেন হলুদ গালিচা বিছানো। কাছে গেলে দেখা যায় সারি সারি সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দুলছে। পানীয়রা বলছেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, এই ফুল এখন আয়েরও বড় উৎস।
কৃষক শে জাহিদুর রহমান জানান, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য তেল উৎপাদন। প্রতি বিঘা জমিতে সাত থেকে দশ মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল মিলতে পারে। বর্তমানে প্রতি নিটার সুর্যমুখী তেলের দাম কমপক্ষে ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বোচ সাড়ে তিন হাজার টাকা। তেল ছাড়াও বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষক মোঃ জাহিদুর রহমান বলেন, লবণাক্ত জমিতে অন্য ফসল ভালো না হলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক ভালো ফলন দিছে। স্বল্প সেচ ও কম পরিচর্যায় এ ফসল উৎপাদন সম্ভব। তাই কৃষকেরা ঝুঁকছেন এ আবাদে।
ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্ত কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছেন, পাশাপাশি মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ করা হছে। তিনি বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। পানীয়ভাবে দুর্যমুখী উৎপাদন বাড়লে আমদানির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বাড়াতে চলতি মৌসুমে ৬০০ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বীজ ও সার বাবদ মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই চাষে প্রণোদনা মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি।
ডুমুরিয়ার কৃষকদের চাওয়া, সরকারিভাবে ক্রয়ব্যবসা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা হলে সূর্যমুখী চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে। এদিকে ডুমুরিয়ার মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখী শুধু ফুল নয়, সম্ভাবনারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।


