
মাত্র একযুগ আগেও চার-পাঁচশ টাকা নিয়ে গেলে পাওয়া যেত ব্যাগভর্তি বাজার। গরুর মাংস, মাছ, সঙ্গে থাকত অন্যান্য শাক-সবজি। তারপরেও কিছু টাকা থেকে যেত। এক যুগের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। আড়াইশ টাকার গরুর মাংস এখন কিনতে হচ্ছে ৭০০ টাকা দিয়ে। ১০০-১১০ টাকার ব্রয়লার মুরগির দাম দুশো টাকা। ১০০-১২০ টাকার মাছ এখন কিনতে হচ্ছে দুই-আড়াইশ টাকায়। ভরা মৌসুমেও সবজির দাম চড়া। এক হাজার টাকার বাজার করলেও ব্যাগ ভরছে না ক্রেতাদের।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংসের কেজি ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা। বাড়তি মাছের দামও। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, যা এখন ১৭০-২০০ টাকায় ঠেকেছে। অন্যদিকে ১৩০-১৪০ টাকা কেজির তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।
রাজধানীর খিলগাঁও বাজারে জাহেদুল নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘শুক্রবার একটু ভালো-মন্দ খাওয়া হয়। এখন সে উপায় নেই। কয়েক দিন ধরে ব্রয়ালার মুরগি ২০০ টাকার উপরে। দেড়শ টাকায় তেলাপিয়া মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে আমরা খাব কী?’
মিজানুর নামে একজন বলেন, ‘এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে এসেছি। এক কেজি গরুর মাংস আর অল্প কিছু সবজি কিনতেই টাকা শেষ। হাজার টাকাতেও এক ব্যাগ বাজার হচ্ছে না। এই বাজার দিয়ে তিন দিনও চলবে না।’
এদিকে শীত শেষ হতে না হতেই বেড়েছে শীতের সবজির দাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩০ টাকায়, নতুন আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকা, বাঁধা কপি প্রতি পিস ৩০-৩৫ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৫০ টাকা। নতুন সবজি হিসেবে পটল, ঢেঁরস, করলার প্রতিকেজি দাম একশ টাকারও ওপরে।
বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতিতে শান্তিতে নেই ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই। মুগদা এলাকার মাছ বিক্রেতা শরীফ বলেন, ‘কিছু দিন আগে যে মাছ ১০০-১১০ টাকায় কিনতাম সেটা অনায়াসে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি করা যেত। কেজিতে ৪০-৫০ টাকা লাভ টিকত। এখন ১৫০-১৬০ টাকার ওপরে মাছ কিনে বিক্রি করতে হয় ১৮০-১৯০ টাকা। বেশি দাম হওয়ায় মানুষ মাছ কিনছে কম। অনেক সময় চালান উঠাতে গিয়ে লোকসানে মাছ বিক্রি করতে হয়। এখন পুঁজি বেশি খাটায়ে লাভও কম, বেচা-বিক্রিও কম।’
এদিকে বাজারের এসব নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তরা। মাসুম নামে একজন বলেন, ‘এখন বাজারে গেলেই মাছ-মাংস না কিনলেও ৫০০ টাকা অনায়াসে শেষ হয়ে যায়। সবকিছুর দাম বেড়েছে, আমাদের ইনকাম তো আর বাড়েনি।


